বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সুনামগঞ্জে কমেছে নদীরপানি, উন্নতির দিকে বন্যা পরিস্থিতি



বন্যার পানির জন্য জনমানবহিন ঘর

সোহানুর রহমান সোহানঃ

ভারী বর্ষণ এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ জেলা তৃতীয় দফায় বন্যা কবলিত হয়েছে। গত ২৫ জুন জেলায় প্রথম হানা দেয় বন্যা। এরপর পানি কমতে শুরু করলেও আবার দ্বিতীয় দফা বন্যা শুরু হয় ১০ জুলাই থেকে। ২০-২১ জুলাই বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আগেই ১৮ জুলাই থেকে শুরু হয় ভারী বৃষ্টি। এতে তৃতীয় দফা বন্যা দেখা দেয় সুনামগঞ্জে। দীর্ঘ এক মাস বন্যার পর গতকাল ২৪ জুলাই থেকে কিছুটা উন্নতির দিকে সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি।

সুনামগঞ্জে ২ দিন ব্যাপি অর্থ্যাৎ গত বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার বৃষ্টি হয়নি। গতকাল সকালে কিছু সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও বাকি সময় ছিল রোদ। ফলে সুরমা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তিভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এতে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সুনামগঞ্জের মানুষ ।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছেন দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে উত্তর পূর্বাঞ্চল ছাড়া দেশের মধ্যাঞ্চল ও অন্যান্য অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা আছে। এদিকে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে সকাল ৯ ঘটিকায় সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সে.মি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সুনামগঞ্জ ও ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টিপাতের খুব একটা সম্ভাবনা নেই। ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয়ে বৃষ্টি না হলে পাহাড়ি ঢলেরও সম্ভাবনা নেই। ফলে সুনামগঞ্জের নদ নদীর পানি হ্রাস পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

তালাবন্ধ বাড়িঘর

তবে সুনামগঞ্জ হচ্ছে হাওর অধ্যুষিত এলাকা। ছোট বড় ১০০ এর অধিক হাওরের জনপদ সুনামগঞ্জ। বেশিরভাগ মানুষ হাওরের পাড়ে বাস করেন। এই হাওর এলাকার পানি কমেছে খুবই কম। জেলার ১১ টি উপজেলা ও ০৪ টি পৌরসভার নিম্নাঞ্চল সহ প্রায় সবাই বন্যাকবলিত হয়ে আছে। জেলায় এমন পরিস্থিতি বিদ্যমান এক মাস ধরে। সপ্তাহের ব্যবধানে পর পর টানা তিন বারের বন্যায় মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে। মানুষের ঘরবাড়িতে যে পানি ঢুকেছিল তা এখনো আছে। রাস্তাঘাটের ওপর পানি থাকায় জেলার সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার মানুষের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জেলা সদরের সঙ্গে বেশ কিছু জায়গার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
জেলা প্রশাসন থেকে জানা যায় এখনো খোলা রয়েছে আশ্রয় কেন্দ্র গুলো। সেই সাথে তারা তাদের ত্রান ও শুকনো খাবার, স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।

তবে পানি কমলেও আশ্রকেন্দ্রের মানুষের ঘরে ফিরতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তিন বারের বন্যার পানিতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ঘরবাড়ি ও জীবনমান। তার উপর করোনার প্রভাব লেগেই আছে। এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে।