সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

সিলেট যেতে ১ শ’ টাকা



Copy-of-DSCN4772সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে যাত্রীবাহী বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন শ্রেণীর যাত্রীদের কাছ থেকে অভিযোগ উঠেছে। সরকার নিধারিত হারে সিলেট-সুনামগঞ্জ ৬০ কিলোমিটার সড়কের জন্য ৮৭ টাকা ভাড়া আদায় করার কথা থাকলেও যাত্রীদের কাজ থেকে এখন ১০০ টাকা হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

এই রাস্তায় চলাচলকারী একাধিক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাস মালিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের দাবি, ৬৫ কিলোমিটার সড়কে তাদের বাস চলাচল করে। সম্প্রতি বাসের আসন ও সেবার মান বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাধারণ সেবায় ভাড়া বাড়ানো হয়নি, শুধুমাত্র স্পেশাল সার্ভিসে ১০ টাকা বাড়ানো হয়েছে খরচ বাঁচানোর জন্য।
তবে এই রাস্তার দূরত্ব ও সাধারণ বাসের ভাড়া নিয়ে বাস মালিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। এক সংগঠনের নেতা জানিয়েছেন রাস্তা ৬০ কিলোমিটার, সাধারণ ভাড়া ৮৭ টাকা। অন্য সংগঠনের নেতা জানিয়েছেন রাস্তা ৬৫ কিলোমিটার, সাধারণ যাত্রীদের ভাড়া ৮১ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে (আলফাত মুক্তার স্কয়ার) থেকে সিলেট শহরের আম্বরখানা ট্রাফিক পয়েন্ট পর্যন্ত সওজের রাস্তা মোট ৬৯ কিলোমিটার। সুনামগঞ্জ শহর থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ অংশের দূরত্ব ৪৬ কিলোমিটার। গোবিন্দগঞ্জ থেকে সিলেট শহর পর্যন্ত দূরত্ব ২৩ কিলোমিটার। সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে মল্লিকপুর পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার ও সিলেটের আম্বরখানা থেকে কুমারগাঁও পর্যন্ত দূরত্ব ৭ কিলোমিটারসহ মোট ৯ কিলোমিটার বাদ দিয়ে যাত্রী নিয়ে বাস চলাচল করে ৬০ কিলোমিটার। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারে ১.৪৫ টাকা ভাড়া আদায় করার কথা। কিন্তু এই রাস্তায় প্রতিনিয়তই অনেক বেশী ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। প্রতি কিলোমিটারে ১.৪৫ টাকা হারে ৬০ কিলোমিটারের ভাড়া ৮৭ টাকা আদায় করার কথা, কিন্তু আদায় করা হচ্ছে ১০০ টাকা।
সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘরের বাসিন্দা সিলেট ল কলেজের ছাত্র সাহেরীন চৌধুরী মিশুক বলেন,‘এই রাস্তায় সবচেয়ে নিম্নমানের গাড়িগুলো দিয়ে যাত্রীসেবা দেয়া হয়। রাস্তার তুলনায় ভাড়া আদায় করা হয় বেশী। ছাত্রদের জন্য কোন সুযোগ সুবিধা নেই। সেবার মান নিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের সাথে বাসের চালক ও হেল্পারদের বচসা হয়। অনেক সময় যাত্রীরা লাঞ্ছনার শিকারও হন। এই অবস্থা চলছে বছরের পর বছর ধরে কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আজ পর্যন্ত কোন উদ্যোগ নেয়নি।’
সুনামগঞ্জে কর্মরত মো. আতাউর রহমান নামের সরকারি এক প্রকৌশলী বলেন,‘সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে রাস্তার তুলনায় অনেক বেশী ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এই রাস্তার মতো  দেশের আর কোথাও এত বেশী ভাড়া আদায় করা হয় না। এই রাস্তার সকল সেতু আগের ছেয়ে অনেক প্রশস্ত। এখন একসাথেই একাধিক গাড়ি আসা যাওয়া করতে পারে। সেতুতে আর অতীতের মতো যানজট হয় না, জ্বালানী তেলের দাম কমছে, আহসানমারা সেতুর টুল আদায় বন্ধ হয়েছে। এতসব সুািবধা পেয়েও বাসমালিকরা ভানা না কমিয়ে বাড়াচ্ছেন। যাত্রীসেবা ও গাড়ির মান ভাল নয়, কিন্তু উল্টো ভাড়া বেশী। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। দ্রুত ভাড়া কমানো ও গাড়ির মান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।’
সুনামগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আইনুল ইসলাম বাবলু বলেন,‘সরকারিভাবে এই রাস্তায় ভাড়া বাড়ানো না হলেও বিভিন্ন অজুহাতে মালিকদের ভাড়া বাড়ানো অযৌক্তিক। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বিরতিহীনের নামে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হয়, আবার রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানো-নামানো হয়। মাঝ রাস্তার যাত্রীদের কাছ থেকেও বিরতিহীনের ভাড়া আদায় করা হয়। এসব অনিয়ম বন্ধে ও যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত।’
সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাহার উদ্দিন ও নূরুল হকের সাথে কথা বলতে তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে চেষ্টা করলে সাহার উদ্দিনের ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং নূরুল হক ফোন রিসিভ করেননি। তাই এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদর উদ্দিন বাবুল বলেন,‘সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের দূরত্ব ৬৮ কিলোমিটার। আমাদের বাস চলাচল করে ৬০ কিলোমিটার। সাধারণ বাসের ভাড়া সরকারি হারেই ৮৭ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে বিরতিহীন বাসগুলোর প্রতিটিতে আমরা ৪টি সিট কমিয়ে যাত্রীদের আদায়দায়ক ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছি। ৪ টি সিট কমিয়ে গাড়িতে এখন ৩১ টি সিট। একারণে প্রতি সিটে মাত্র ১০ টাকা বেশী আদায় করা হচ্ছে। আমরা ভাড়া বেশী আদায় করছি না। আগে ৪ টি সিটে ভাড়া ছিল ৯০ টাকা করে ৩৬০ টাকা। ৪ টি সিট কমিয়ে এখন ৩১ টি সিটে ১০ টাকা আমরা পাচ্ছি ৩১০ টাকা। আমাদের ৫০ টাকা লোকসান হচ্ছে। তবুও যাত্রীদের সেবার মান উন্নয়নে ও নিরপত্তার বিষয়ে আমরা সব সময় আন্তরিক আছি।’
সুনামগঞ্জ জেলা বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস মালিক গ্রুপের মহাসচিব মোজাম্মেল হক বলেন,‘আগে বিরতিহীন গাড়ির ভেতরে আসনগুলো খুব গাদাগাদি ছিল, যাত্রীদের কষ্ট হত। বর্তমানে বিরতিহীন গাড়িগুলোর বামে-ডানে দু’টি করে ৪টি আসন কমানো হয়েছে। সাধারণ যাত্রীসেবায় ভাড়া বাড়ানো হয়নি, আগের মতই ৮১ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। শুধুমাত্র স্পেশাল সার্ভিসে ১০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে কিন্তু আগের চেয়ে যাত্রীসেবার মান বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীরা যাতে কোনভাবেই হয়রানীর শিকার না হয় সেজন্য সুনামগঞ্জ-সিলেট উভয় স্ট্যান্ডে ম্যানেজারগণ কঠোর নজরদারি করছেন। কারো কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়।’
বিআরটিএ সুনামগঞ্জ অফিসের পরিদর্শক মো.জিল্লুর রহমান বলেন,‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এই রাস্তায় ৯০ টাকার নিচে ভাড়া হওয়ার কথা। নিয়মের বাইরে যাত্রীদের কাছ থেকে কোনভাবেই বেশী ভাড়া করা নেয়া যাবে না। এ ব্যাপারে কোন যাত্রীর কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বা মোবাইল কোর্ট চলাকালে এধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’