শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

মাহির ইস্যুঃ প্রশাসনের ক্ষমা চাওয়াসহ চার দফা দাবি শিক্ষার্থীদের




শাবি প্রতিনিধিঃ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহির চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রশাসন কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়াসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা ।

সোমবার (১৩ই জুলাই) দুপুরে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক প্রেস রিলিজে এই দাবি জানানো হয় ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৭৫জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর সম্বলিত এই প্রেস রিলিজে প্রশাসনের নিকট দাবিসমূহ উপস্থাপন করা হয়। প্রেস রিলিজে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ‘শাবিপ্রবির অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহির চৌধুরীর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া একটি স্ট্যাটাসের কারণে গত ১৫ই জুন তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে স্বেচ্ছাচার, প্রতিহিংসাপরায়ণতা ও দায়িত্বহীনতার এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন শাবিপ্রবি প্রশাসন। ঐ শিক্ষার্থীর বাসায় পুলিশ পাঠিয়ে হয়রানি করে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তার নামে কুৎসা রটিয়ে তাকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করার সবরকম চেষ্টাই করা হয় প্রশাসনের তরফ থেকে। অবশেষে গত ২৫শে জুন জানা যায় এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছে প্রশাসন। কিন্তু শুধুমাত্র মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেই প্রশাসন এই অনধিকারচর্চা ও শিক্ষার্থীর সাথে জিঘাংসামূলক আচরণের অপরাধ থেকে দায়মুক্তি পাবে না। ১৫ই জুন থেকে ২৫শে জুন পর্যন্ত এই মামলার কারণে মাহিরকে যে দুর্বিষহ মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে এবং এতে বাকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ভয়ঙ্কর ক্ষোভ ও গভীর অনাস্থা জন্ম নিয়েছে, একমাত্র প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা ও সুনির্দিষ্ট জবাবদিহিতাই এই ক্ষোভ ও অনাস্থা প্রশমিত করার প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।’

এছাড়াও এই কয়দিনে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে  অস্পষ্টতা, অস্বচ্ছতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষার্থীরা ।

প্রেস রিলিজে তারা আরও উল্লেখ করেন, প্রশাসনের মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিস্পত্তি করতে হবে। এবং মামলা প্রত্যাহার প্রক্রিয়া কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে তার তারিখ সবাইকে জানাতে হবে। দ্বিতীয়ত, সম্পূর্ণ ঘটনায় প্রশাসনিক বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অনৈতিক কর্মকান্ড দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যগুলোর পরও শিক্ষার্থীরা কেন তাদের উপর আস্থা রাখবে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের তা জবাবাদিহিতা করতে হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে তার ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে বিভীষিকাময় করে তোলার জন্য শাবিপ্রবি প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। চতুর্থত, পরবর্তী সময়ে আর কখনোই কোনো শিক্ষার্থী এমন প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হবে না এই মর্মে শিক্ষার্থীদের কাছে শাবিপ্রবি প্রশাসনকে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে।’

প্রসঙ্গত, মাহির চৌধুরীর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া একটি স্ট্যাটাসের কারণে গত ১৫ই জুন তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয় । এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তারই প্রেক্ষিতে প্রশাসন মামলা প্রত্যাহারের ঘোষনা দেয়।

 

NE/MAR