শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

মাহিরের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি শাবির ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের



শাবি প্রতিনিধিঃ

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পর ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (২০শে জুন) ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জাহিদ হাসান (যন্ত্রকৌশল বিভাগ), কৃষ্টি প্রিয়া চৌধুরী (রসায়ন বিভাগ), নাফিস নাদভী (শিল্প উৎপাদন ও প্রকৌশল বিভাগ), ফয়সাল শুভ (নৃবিজ্ঞান বিভাগ), মো: শাহিন মিয়া (ইংরেজি বিভাগ) ও অভিজিৎ দাস (সিএসই বিভাগ) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ‘একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহির চৌধুরীর (অর্থনীতি বিভাগ, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ) বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ১৫ই জুন, ২০২০ তারিখে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে (মামলা নং- ৫, জালালাবাদ থানা, সিলেট)। প্রশাসনের পক্ষে মামলার বাদী হন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার। এর আগে মাহির চৌধুরীকে অনলাইনে হুমকি প্রদান ও নানাভাবে হেনস্থা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দায়ের করা এ মামলার এজহারে ছিল নানা ভুল ও অসঙ্গতি। এতে অত্যন্ত হাস্যপ্রদভাবে দাবি করা হয় মাহির চৌধুরী ফেসবুকে আলোচ্য স্ট্যাটাসটি পোস্ট করে ছিলেন “শাহপরান হলের সামনে থেকে”, যদিও বাস্তবে তিনি তখন ছিলেন ঢাকায় নিজের বাড়িতে।’

বিজ্ঞপতিতে তারা উল্লেখ করেন, ‘মামলার বিষয়ে প্রক্টর জহির উদ্দীন আহমেদ মন্তব্য করেন যে- “সে কিছুদিন আগে অনলাইন ক্লাস বর্জনের আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিয়েছে”। এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে শাবিপ্রবি কর্তৃপক্ষের জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্তের যৌক্তিক প্রতিবাদ করায় মাহির চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হয়েছে। শাবিপ্রবি প্রশাসনের এই ন্যাক্কারজনক আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদর্শের সাথে সংঘাতপূর্ণ, যা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের শত্রুভাবাপন্ন মনোভাবকে নগ্নভাবে প্রকাশ করে। এ থেকে আরও প্রমাণিত হয় যে, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী তো নয়ই বরং তা দমনে চরম আগ্রাসী ভূমিকা পালনে অত্যুৎসাহী।

বিজ্ঞপিতে তারা আরও বলেন, ‘আমরা শাবিপ্রবির ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীবৃন্দ শাবিপ্রবি প্রশাসনের এহেন ন্যাক্কারজনক কাজের বিরুদ্ধে নিন্দাজ্ঞাপন ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা দাবী জানাচ্ছি যে, মাহির চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা এই হয়রানীমূলক মামলা অবিলম্বে বিনাশর্তে প্রত্যাহার করতে হবে এবং বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী নিপীড়নমূলক “ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮” বাতিল করতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে কথা বলার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টার সাথে মুঠোফোনে আলাপ করার চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহির চৌধুরীর বিরুদ্ধে শাবিপ্রবি প্রশাসনের পক্ষে সিলেটের জালালাবাদ থানায় মামলাটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন।ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এই মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ জুন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পর সেদিন ফেসবুকে তার মৃত্যু নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেন শিক্ষার্থী মাহির চৌধুরী।