বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

মাহিরের বিরুদ্ধে মামলায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা এবং ক্ষমা প্রার্থনার দাবি



 


শাবি প্রতিনিধিঃ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী মাহির চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিগত ১৫ জুন মামলার ঘঠনায় প্রশাসনের জবাবদিহিতা এবং ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানিয়েছে ওই সেশনের শিক্ষার্থীরা ।

আজ ২৭ই জুন গনমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানায় তারা।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা উল্লেখ করে, ‘গত ২৫ জুন রাতে গনমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমের আমরা জানতে পারি যে, শিক্ষার্থীদের চাপে শাবিপ্রবি প্রশাসন মাহিরের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। একই সাথে বিগত ১১ দিনের এই প্রহসনে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদ অলংকৃত করা কর্তাব্যক্তিদের বিভিন্ন কর্মকান্ড ও বক্তব্যের জন্য তাঁদের জবাবদিহি করা সময়ের দাবি হিসেবে মনে করছি আমরা।’

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মাহিরের বিরুদ্ধে মামলার ঘঠনায় শাবিপ্রবির মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ, রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন, প্রক্টর অধ্যাপক জহীর উদ্দিন আহমেদ ও ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদারের বিভিন্ন বক্তব্য উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ এই চারটি পদে দায়িত্ববান ব্যক্তিদের বিভিন্ন কর্মকান্ড ও কথাবার্তায় আমরা বার বার হতাশ হয়েছি। একই সাথে তাঁরাসহ সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে দিন দিন জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে উঠে যাচ্ছে তাও শিক্ষার্থীদের জন্য শঙ্কার। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা নিজেদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছি। এ থেকে নিষ্পত্তি পেতে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা প্রশাসনের নিকট কিছু দাবি উত্থাপন করছি।

দাবি-দাওয়াগুলো নিম্নরূপঃ
১। মামলা প্রত্যাহারের আইনি প্রক্রিয়া দ্রুততর সময়ের মাঝে নিষ্পত্তি করতে হবে।

২। বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মাহির ও তার পরিবারের নিকট তাদের করা এই হয়রানীমূলক মামলার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

৩। ঠিক কী কারণে কোন প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে মাহিরের বিরুদ্ধে মামলা করা হল এবং কেনই বা তা শেষে এসে প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হল তা আনুষ্ঠানিক ভাবে বিবৃতি দেওয়ার মাধ্যমে সকলের নিকট পরিষ্কার করতে হবে।

৪। ভবিষ্যতে নিজ নিজ মত প্রকাশের জন্য আর কোন শিক্ষার্থী ও তার পরিবারকে যেন এরকম হয়রানীর মুখোমুখি হতে না হয় তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

৫। প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্বে থাকা সবাইকে তাঁদের নিজ নিজ কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

 

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে ফেসবুকে কথিত ’আপত্তিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগ এনে সিলেটের জালালাবাদ থানায় অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহির চোধুরীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে মামলা করেন রেজিস্ট্রার মো. ইশফাকুল হোসেন।

মামলা দায়েরের পর থেকেই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অনলাইনে সরব হয়ে উঠেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। তাদের টানা আন্দোলনের মুখে ১০ দিনের মাথায় মামলা প্রত্যাহার করার আবেদন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সার্বিক বিষয় নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা রাশেদ তালুদারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।