বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২২ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বিশ্বম্ভপুরে জমজমাট পশুর হাট তবে স্বাস্থ্য বিধির কোন বালাই নেই



 

আজকে বাঘবের বাজারের একাংশের একটি চিত্র

স্টাফ রিপোর্টারঃ  সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভপুর উপজেলায় জমে উঠেছে কুরবানী পশুর হাট। শত শত ছোট বড় গরু ছাগল উঠেছে বিভিন্ন হাটে। তবে করোনার ভয় উপেক্ষা করে ঈদের সর্বশেষ বাজারের একদিন আগে কোরবানির পশুর হাট জমতে শুরু করেছে। পবিত্র কোরবানির ঈদুল আযহার আর মাত্র এক দিন সময় আছে। এই সময়ে হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতার উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পর্যাপ্ত পশু বাজারে থাকলেও খুব একটা বিক্রি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করছেন বিক্রেতারা। তবে এসব হাটে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্বের ধারে কাছেই আসছেন না কেউ।

সরেজমিনে বিশ্বম্ভপুর উপজেলার পলাশ ও বাঘবের বাজার ঘুরে দেখা যায় শুধু মাইকিং এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে স্বাস্থ বিধি। তবে এই মাইকিং এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ ও নেই কারোর। গা ঘেঁষে গাদাগাদি করে চলাচল করছেন ক্রেতা বিক্রেতারা। যেখানে তিন ফুট দুরত্ব মেনে চলার কথা সেখানে তিন ইঞ্চির ও দুরত্ব নেই। মাস্ক ব্যবহারেও রয়েছে উদাসিনতা। মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকলেও বিশ শতাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। হাজার হাজার মানুষের জনসমাগমে ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে বিশ্বম্ভপুর উপজেলার বিভিন্ন পশু হাটবাজারগুলো।

বাঘবের বাজারের গরু বিক্রেতা আব্দুল হাইকে মাস্ক ব্যবহারের কথা জিজ্ঞেস করলে বৃষ্টির অজুহাত দেখিয়ে বলেন। বৃষ্টির মধ্যে মাস্ক ভিজে গেছে মাস্ক কিভাবে পড়ি?
আরেক ব্যাপারি মাহতাব জানান এবার গরু বিক্রি করা খুবই কষ্ট আছে। মানুষ আছে কিন্তু কেউ গরু কিনছেন না। চৌদ্দটি টি গরু নিয়ে আসছি কিন্তু বিক্রি করতে পেরেছি মাত্র একটি।
একই বাজারের স্বেচ্ছাসেবক বলেন যে তারা মানুষকে সচেতন করতেই এখানে অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু মাস্ক ছাড়া এতো পরিমাণ মানুষ এসেছে যে তাদের সামাল দেয়া যাচ্ছেনা।
ঐ বাজারে দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে জানা যায় জনগনের নিরাপত্তার স্বার্থে যতটুকু নিরাপত্তার প্রয়োজন তারা সেই পরিমান নিরাপত্তা নিয়েছেন। পুলিশ বাজারের ভিতরে এবং বাহিরের চতুর্দিকে আছে। যে কোন অপ্রতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে তারা প্রস্তত।

স্বাস্থবিধি সম্পর্কে বিশ্বম্ভপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সমীর বিশ্বাস সিলেট ২৪ কে জানান মাস্ক সহ সরকারের নিয়ম পালন করতে তাদের সচেতনতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সেই সাথে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের মানুষ দেখলেই তারা মাস্ক পরিধান করে। চলে আসলে আবার অসচেতন ভাবে চলা ফেরা করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অংশ হিসেবে ২৮ জুলাই পলাশ বাজারে মাস্ক ও স্বাস্থ বিধি না মানায় অভিযান চালিয়ে ৪,৪০০ টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়েছে।