রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ১১ তম প্রয়ান দিবস



স্টাফ রিপোর্টারঃ “কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু, ছেড়ে যাইবা যদি” কিংবা ” আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম ” এরকম অসংখ্যক জনপ্রিয় গানের জন্মদাতা বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের ১১ তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ।

২০০১ সালে বাংলা সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমকে একুশে পদকে ভূষিত করে বাংলাদেশ সরকার। এবং ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর দুনিয়ার মায়া ছেড়ে চলে যান দেশ বিদেশে বিখ্যাত এই সম্রাট।

শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার ধলাশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় তিনি বাউল শাহ ইব্রাহিম মাস্তান বকশের কাছ থেকে সংগীতের প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁর গানে উঠে এসেছে ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ, প্রেম-ভালোবাসা, অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর অসাম্প্রদায়িকতার কথা।

স্বশিক্ষিত বাউল শাহ আবদুল করিম প্রায় এক হাজার ৬০০ গান নিজে লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন, যার মধ্যে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে ১০টি গান। এ ছাড়া শরিয়তি, মারফতি, দেহতত্ত্ব, গণসংগীত, বাউল গানসহ অন্যান্য শাখার চর্চাও করেছেন কালজয়ী সংগীতের এই স্রষ্টা।

তাঁর কালজয়ী গানের তালিকায় আছে ‘বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে’, ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু’, ‘বসন্ত বাতাসে সইগো’, ‘সখী কুঞ্জ সাজাও গো’, ‘তুমি মানুষ আমিও মানুষ’, ‘প্রাণে সহে না দুঃখ বলব কারে’, ‘কোন মেস্তোরি নাও বানাইছে’, ‘ওরে ভব সাগরের নাইয়া’র মতো অসংখ্য গান।

এত কিছুর পরও তিনি শহরের মানুষের গানে জনপ্রিয় হয়েছেন মৃত্যুর মাত্র কয়েক বছর আগে। সে সময় অন্য শিল্পীরা তাঁর গানগুলো নতুন করে গাওয়ার পরই জনপ্রিয়তা পান এই শিল্পী। এর আগে তিনি শুধু ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছে জনপ্রিয় ছিলেন। এখন তিনি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে ও খুব বিখ্যাত একজন মানুষ।