রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

প্রতিবাদী গান, কবিতা, নৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে ধর্ষণের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী পালন



 

সোহানুর রহমান  : ‘পথে নামো, আওয়াজ তোল, অনাচার-অবিচার-নৃশংসতা রুখে দাঁড়াও’ এই স্লোগান নিয়ে সুনামগঞ্জে সাংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সমাজকর্মী এক কাতারে এসে ধর্ষণের প্রতিবাদে জড়ো হয়ে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। প্রতিবাদী গান, কবিতা, নৃত্য পরিবেশন করে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরসহ সারা দেশে ঘটে যাওয়া সকল নৃশংস ধর্ষণের প্রতিবাদ জানানো হয়। প্রতিবাদ জানানো হয় সকল বর্বতার এবং ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির নিশ্চয়তা চেয়ে।

বুধবার বিকেল ৪টা থেকে পৌরশহরের হোসেন বখত চত্তরে অবস্থান নিয়ে এই প্রতিবাদী কর্মসূচী পালন করা হয়।

প্রসেনিয়াম থিয়েটারের নাট্যকর্মী দেবাশিষ তালুকদার শুভ্র’র সঞ্চালনায় প্রতিবাদ কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন, সাংস্কৃতিক সংগঠক অ্যাডভোকেট অলক ঘোষ চৌধুরী, সৃষ্টি থিয়েটারের সভাপতি সামিনা চৌধুরী মনি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্য বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজিয়া হক ফারিন, আবৃত্তি শিল্পী রুবাইয়া আলতাফ নুরা, নাট্যকর্মী শাওন দাস, পৃথ্বি রাজ, যুব ইউনিয়ন নেতা আবু তাহের প্রমুখ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বন্ধন থিয়েটারের সভাপতি নাট্যকর্মী সামির পল্লব, থিয়েটার সুনামগঞ্জের সহদলনেতা তাজকিরা হক তাজিন, শিক্ষার্থী কারিশমা দেবী মনি, এআর অমিত প্রমুখ।

এসময় কবিতা আবৃত্তি করেন প্রসেনিয়াম থিয়েটারের দলনেতা সাদিকুর রহমান খান রুবেল, নৃত্য পরিবেশন করেন বৃষ্টি তালুদার, প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন আলাউর রহমান।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে কোন মেয়ে নিরাপদ নয়, যে কোন সময় যে কেউ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে। সম্প্রতি সিলেটের এমসি কলেজ কিংবা নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যে নৃশংসতা ঘটে গেছে তাতে পুরো দেশের মানুষকে এই ঘটনা গুলি লজ্জায় ফেলে দিয়েছে এবং এর দায় কেউ এড়াতে পারেন না। আর ভবিষ্যতে আরো জঘন্য ঘটনা ঘটতে পারে কারণ অতীতের ঘটনা গুলোর যথাযথ বিচার না হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটে চলেছে। তাই এখন সময় এসেছে ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান করে এবং রায় কার্যকর করে মৃত্যুদন্ড নিশ্চিত করলে তবেই ধর্ষকদের ভয় হবে এবং ভবিষ্যতে এসব নৃশংস কাজ করতে ভয় পাবে। সেই সাথে নৈতিক মূল্যবোধের জায়গা সৃষ্টি করতে হবে। নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণেও এমন জঘণ্য ঘটনাগুলোর পুনারাবৃত্তি ঘটছে। সেই সাথে অভিভাবকেরাও নিজের সন্তান কাদের সাথে মিশে কোথায় যায় তা খেয়াল রাখতে হবে এতে করে ধর্ষণের ঘটনা কিছু কমতে পারে। বক্তারা আরো বলেন ধর্ষকেরা যে দলেরই হোক তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় না দিয়ে তাদের ধর্ষক হিসেবেই চিহ্নিত করতে হবে। তাদের পরিচয় শুধুই ধর্ষক।