সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

দিরাই-শাল্লা’র ফসলী মাঠ পানিতে টইটুম্বুর



cf98bbbece96f9251c293cdf1759ff74বৃষ্টিপাত  মৌসুম পাল্টানো’য় দিরাই-শাল্লায় মারাত্বক  ক্ষতি হচ্ছে বোরো ফসলের। এতে প্রতিটি হাওরেই দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। অধিকাংশ হাওরেই নীচু ধানী জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। শ্যালু মেশিনের সাহায্যে থেঢালার হাওর থেকে পানি বের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ৪ গ্রামের কৃষকরা। দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ভাইটগাও, ধাইপুর, বাউশী ও দক্ষিণ সুরিয়ারপাড় গ্রামের কৃষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেন।

বিবিয়ানা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ভাইটগাও গ্রামের নৃপেন্দ্র চন্দ্র তালুকদার চার গ্রামবাসীর সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে বলেন, ধান কাটার এই মৌসুমে অসময়ের এই বৃষ্টিতে আতঙ্ক আর আনন্দ কোনোটারই যেন কমতি নেই হাওরে। রোদ দেখলেই কৃষক-কৃষাণীরা যেমন আন্দোলিত হন তেমনি ঝড়ো হাওয়ার সাথে বজ্রবৃষ্টি তাদের আতঙ্কিত করে তুলে।
চাপতির হাওরপারের কৃষক আলাউদ্দিন, শীষ মিয়া, আজমত আলী, ছিফত আলী বলেন, সপ্তাহ্ খানেক ধরে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় প্রতিটি হাওরে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে নীচু জমির বোরো

ধান পাকার আগেই তলিয়ে যাচ্ছে পানিতে। দিরাই উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারি কর্মকর্তারা বলছেন, ফসলের উৎপাদন ক্ষতি এখনো নিরূপণ করা হয়নি। তবে শিলাবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় কি পরিমাণ জমি আক্রান্ত হয়েছে ইউনিয়নভিত্তিক তার একটা হিসাব জেলা পর্যায়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল হারানোর শঙ্কা কৃষকদের কৃষিবিমুখ করে তুলছে। বজ্রপাত হলেই প্রাণ বাঁচাতে কৃষি শ্রমিকদের কাজ ফেলে  নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে হয়। জগদল ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, বুধবার রাতে কালবৈশাখীর সাথে শিলাবৃষ্টি চাপতির হাওরে পাকা ধানের যে ক্ষতি করেছে তার চাইতেও মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে অসময়ের ভারি বৃষ্টিপাতে। একই বক্তব্য তাড়ল ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল হক তালুকদারেরও।

শাল্লা ইউপি চেয়ারম্যান আবুল লেইছ চৌধুরী বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিরাতেই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আরও এক সপ্তাহ্ এভাবে চলতে থাকলে বৃষ্টির পানিতেই বর্ষা হয়ে যাবে। হবিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান সুবল চন্দ্র দাস বলেন,  শাসখাইর হাওরে ৪ আনা ও বরাম হাওরে ৬ আনা ফসল শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বৃষ্টির পানিতে অধিকাংশ হাওরের নীচু ফসলী জমি তলিয়ে যাচ্ছে। বাহারা ইউনিয়নে পুড়ারপার হাওরের অবস্থাও একই বলে জানান তিনি। দিরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মুঠো ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা রনধীর চৌধুরী বলেন, ১ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমির ফসল শিলাবৃষ্টিতে এবং ৩০০ হেক্টর জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শাল্লা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  কে এম বদরুল হক বলেন, জলাবদ্ধতা ও শিলাবৃষ্টিতে সামান্য ক্ষতি হলেও উল্লেখ করার মতো নয়।