সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম

কমিটি নিয়ে চরম অসন্তোষ বিএনপিতে



bnp_15158_1465093494কমিটি ঘোষণার পর চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে। জেষ্ঠ্যতা না মেনে জুনিয়র নেতাদের বড় বড় পদে পদায়ন করায় হযররল অবস্থা বিরাজ করছে। ভাইস চেয়ারম্যান পদ পাওয়া বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা পদ এমনকি দল ছাড়ারও চিন্তা করছেন। অনেক জুনিয়র নেতাকে চেয়ার পারসনের উপদেষ্টা করা হয়েছে। আবার একজেলায় দেখা গেছে কমিটিতে স্থান পেয়েছে ২০ জনের অধিক নেতা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপির কমিটিতে যে হারে জেলার নেতাদের ঢালাওভাবে আনা হয়েছে তাতে জেলা কমিটির আর প্রয়োজন হবে না। উপজেলা পর্যায়েও কেন্দ্রীয় বড় বড় পদের নেতা দলকে নেতৃত্ব দেবেন। ফলে দলীয় চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়তে পারে।

এদিকে, দু-এক দিনের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার ঘোষণা দিতে পারেন আবদুল্লাহ আল নোমান। শুধু পদ ছাড়া নয়, বিএনপির রাজনীতি থেকেও তিনি সরে দাঁড়াতে পারেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রের ভাষ্য, আবদুল্লাহ আল নোমান এবার বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হতে আগ্রহী ছিলেন। তিনি এই পদ পেতে পারেন বলে দলে জোরালো আলোচনাও ছিল। কিন্তু তাঁকে ফের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এতে তিনি মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল রোববার রাতে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, তিনি ভাইস চেয়ারম্যান পদে আর থাকতে চান না। দু-এক দিনের মধ্যে অবস্থান জানাবেন।
দল থেকে পদত্যাগের চিন্তা আছে কি না—এমন প্রশ্নে নোমান বলেন, ‘দল থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য আমার ওপর চাপ আছে। আমার নেতা-কর্মীরা এই চাপ দিচ্ছেন। তবে পদ আমি ছাড়ছি। আর দল ছাড়ছি কি না, তা দু-এক দিনের মধ্যে জানানো হবে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ। তাঁরা দুজনই বৃহত্তর চট্টগ্রামের বাসিন্দা। নোমানও চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এর আগে ২০০৯ সালেও নোমান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হতে পারেন বলে দলে আলোচনা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, পরপর দুই বার প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে নোমান বেশ আশাহত হয়েছেন।

গত শনিবার বিএনপির নির্বাহী কমিটি ঘোষণার পরপরই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন মোসাদ্দেক আলী ফালু। একইদিন নিজের নাম প্রত্যাহার করার আবেদন জানিয়ে চিঠি দেন সহ-প্রচার সম্পাদকের পদ পাওয়া শামীমুর রহমান।

চট্টগ্রাম নগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী  বলেন, ‘চট্টগ্রামের প্রায় বড় বড় সব নেতা নোমান ভাইয়ের হাতে গড়া। আজ অনেকেই কেন্দ্রীয় বড় পদ পেয়েছেন। অথচ তাঁকে (নোমান) পরপর দুবার অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তাই আমরা মনে করি এই দলে থেকে সম্মান নষ্ট করার আর কোনো প্রয়োজন নেই।’

কমিটিতে প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে বিএনপির নেতাদের একটি বড় অংশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাঁদের অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ার চিন্তা করছেন।

সিলেট বিভাগেও বিশৃংখলা সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন দলীয় নেতা কর্মীরা।জুনিয়র নেতাদের আশাতীত পদায়নের ফলে হীতে বিপরীত হতে পারে বলে আশংকা করছেন ত্যাগী নেতারা।